১৯৭৫ সালের IFA শিল্ডে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ০-৫ গোলে হারের ক্ষত তখনও শুকায়নি। এর দু'বছর পর ১৯৭৭ সালে কলকাতায় এল উত্তর আমেরিকার ফুটবল ক্লাব নিউ ইয়র্ক কসমস। পেলে, টনি ফিল্ডস, ইরোল ইয়াসিন, কার্লোস টরেস-এর মতো কিংবদন্তী বিশ্বকাপার তারকা ফুটবলার সমৃদ্ধ ক্লাব। উদ্দেশ্য ২৪ সেপ্টেম্বর মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ইডেন গার্ডেনে শুরু হল ম্যাচ। সবার নজর আর উদ্দীপনার কেন্দ্রে ছিল ‘ব্ল্যাক পার্ল’ পেলে। অফিসিয়ালি খেলাটা কসমস বনাম মোহনবাগানের হলেও আসলে ম্যাচটা ছিল পেলে বনাম মোহনবাগানের। ফ্রান্স বেকেনবাওয়ার চোটের জন্য কসমস টিম থেকে বাদ পড়েন। না হলে পেলের সঙ্গে আর এক ফুটবল কিংবদন্তী সেদিন ইডেনে খেলতেন।
![]() |
| শিবাজি বন্দোপাধ্যায়ের সেভ |
খেলা শুরু হবার ১৭ মিনিটেই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার টরেস গোল করে কসমসকে এগিয়ে দেন। কিন্তু তুরস্কের গোলকিপার ইয়াসিনকে প্রতিহত করে শ্যাম থাপা পরের মিনিটের গোলে সমতা ফেরায় মোহনবাগান। কোচ পিকের বড় ভরসা শ্যাম থাপা আরেকবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। পিকের ভোকাল টনিকে সবুজ-মেরুন দলে তখন তুরগ গতি। এরপর হাবিব-আকবর যুগল বন্দিতে ফের নাস্তানাবুদ হয়ে যায় তারকাখচিত কসমস। আকবরের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। বিতর্কিত পেনাল্টিতে ইতালিয়ান স্ট্রাইকার জওরজিও চিনাঙ্গলিয়ার পেনাল্টি শটে সমতা ফেরায় কসমস। খেলা ২ - ২ গোলে ড্র হয়ে যায়। ফের একবার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখা হয়ে যায় মোহনবাগানের।
তবে আন্তর্জাতিক,
প্রবাদপ্রতিম ফুটবলারদের ভিড়েও নজর কাড়েন বাগানের গোলকিপার শিবাজি বন্দোপাধ্যায়। বাবা
সুবোধ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন জাতীয় গোলকিপার। যোগ্য পুত্র শিবাজি ছিলেন টাইব্রেকার
স্পেশালিস্ট। দেশের হয়েও গোলকিপিং করেছেন।
![]() |
| 'দ্য ব্ল্যাক পার্ল' |
এই ম্যাচে ঝাঁপিয়ে পেলের পা থেকে বল কেড়ে নেন শিবাজি বন্দোপাধ্যায়। শিবাজির দুর্দান্ত সেভ, গোলকিপিংয়ে মুগ্ধ হয়ে পেলে ম্যাচের পরে তার সঙ্গে গর্ডন ব্যাংকসের সঙ্গে তুলনা করেন।
ম্যাচে দু’পক্ষের দুটো করে গোলের বাইরেও যেটা ছিল সবচেয়ে মজার এবং লক্ষনীয় বিষয় সেটি হল কসমস কোচ ফারমানির টিম ফর্মেশন এবং গেম প্ল্যান। কসমস দলের প্রধান ফর্মেশন ৪-২-৪ থাকলেও টিম খেলছিল ১-২-৩-৪ ফর্মেশনের মতো। কার্লোস টরেস সেখানে নিজের দলের ডিফেন্ডারের পিছনে খেলেছিলেন স্যুইপারের ভূমিকায়। অথচ ম্যাচে তিনি একটি গোল করেছিলেন। মোহন বাগানের আক্রমণকে সামাল দিতে কসমস কখনও আবার খেলেছিল S ৩৪ এবং ১-৪-৩-২ ফর্মেশনে। ওয়েভিং এবং ফ্রি-ফ্লোয়িং এই দুই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে ফারমানি সেদিন রক্ষণ এবং আক্রমণের অদ্ভুত এক মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। মাঝমাঠ সামলেছিলেন গারবেট এবং দিমিত্রিজেভিচ জুটি। প্রয়োজন মতো দ্রুত নিজেদের পজিশন বদলে নিচ্ছিলেন দু’জন। পূর্বনির্ধারিত গেমপ্ল্যানের বাইরে ছিল তাদের গতিপ্রকৃতি। ফর্মেশনকে সেদিন নমনীয় করে খেলেটাকে এমনই নন্দনীয় করে ছিলেন ফারমানি।


3 মন্তব্যসমূহ
ভীষণ ভালো লিখেছেন
উত্তরমুছুনপাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুনচমৎকার
উত্তরমুছুনNice