বটু কৃষ্ণ হালদার



  বিশ্ব জুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপে। দিনে দিনে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে। কোথাও বা আলোচনার মধ্যে তুমুল গন্ডগোল শুরু হয়, মাথা ফাটে। আবার কোথাও বা ভিন্ন সমর্থক দের মধ্যে রেষারেষি থাকলেও একসঙ্গে বসে খেলা দেখার মজা নেয়। বিশ্বকাপ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন মজার চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফুটে ওঠে যা খুবই উপভোগ্য। তবে মুখ্য বিষয় হল, যেখানে এক দেশের মাটিতে অন্য দেশের পতাকা উত্তোলন হলে দাঙ্গা হাঙ্গামা বাধার উপক্রম হয় সেখানে,ভারত,বাংলাদেশ,পাকিস্তান সহ বহু দেশ যারা অংশগ্রহণে আজও সক্ষম হয়ে উঠতে পারেনি, সেই সব দেশ গুলোতে ভিন্ন দেশের সমর্থকদের পতাকা উত্তোলন করার ধুম পড়ে যায়। বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই। এক্ষেত্রে কিন্তু কোন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে না। আবার প্রতিবেশী বাংলাদেশে তো ছয়টি গ্রামের সমান পতাকা লাগিয়ে রেকর্ড গড়েছে ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। যাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা। আর হবে নাই বা কেন, এ যে সব খেলার সেরা শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বের সেরা ফুটবল। 



 এক্ষেত্রে দুঃখ জনক বিষয় হল এই বিশ্ব কাপ খেলায় বিশ্বের বহু দেশ মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তাদের জনসংখ্যা হয় তো কোটি ছাড়ায়নি। আর ভারত প্রায় ১৩০ কোটির দেশ সেখানে দর্শক।কারণ পাকিস্তান,ইন্ডিয়া,নোংরা রাজনীতি,আর দুর্নীতির খেলা খেলতে গিয়ে  ফুটবল মোহন বাগান ,ইস্ট বেঙ্গলের গণ্ডি টপকে বিশ্বের দরবারে আর পৌঁছাতে পারেনি আজও। তার সঙ্গে ভারত বর্ষের ফুটবল ভবিষ্যত ধ্বংসের অন্যতম কারণ ছিল তৎকালীন জহর লাল নেহেরুর কংগ্রেস সরকারের স্বার্থন্বেষী মনোভাব। স্বাধীনতার পরে তিনি বিন্দুমাত্র দেশের কথা ভাবেননি। দেশের মানুষ কষ্টে,অনাহারে,অভুক্ত থাকলেও নিজের সুখ,স্বাচ্ছন্দ,আনন্দ,ফুর্তিতে ছিলেন অবিচল।দিন রাত বিভিন্ন পার্টিতে যোগদান করে মহাভুরিভোজ থেকে বিরত থাকতেন না, তেমনি দেশের রাজকোষ শূন্য করে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে বেড়াতেন এমন প্রমাণ বহুবার পাওয়া যায় বিভিন্ন তথ্য থেকে। এমন মহান দেশপ্রেমিকের চরম ভুলে ভারতবর্ষের ফুটবল বিশ্বের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারল না আজও। কারণ শুরুতেই ফুটবলের মাজা ভেঙ্গে দিয়েছিলেন জহরলাল নেহেরু। তবে এক্ষেত্রে দোষ অবশ্যই ভারতবর্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সহ তৎকালীন মহান দেশ সেবকদের। স্বাধীন ভারতে ১৯৪৮ সালে লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় ফুটবল দল খেলার অনুমতি পায়।কিন্তু এতই দুর্ভাগ্য যে স্বাধীন ভারতের ফুটবল টিমের কাছে জুতো কেনার পয়সা ছিল না। কিছু খেলোয়াড় মোজা এবং বাকিরা খালি পায়ে খেলেছিল। ভারতের প্রথম ম্যাচ ফ্রান্সের সাথে ছিল। কিন্তু ফ্রান্সের ফুটবলাররা কেউ খালিপায়ে খেলেননি। ভারতীয় ফুটবল টিমের প্রদর্শনী খুশি হয়ে দর্শকরা স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিয়েছিলেন।

  এরপরেও মহাসুযোগ এসেছিল ব্রাজিল ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে। ভারত ওয়ার্ল্ড কাপ বিশ্বকাপ খেলাতে কোয়ালিফাই করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতীয় টিমকে ব্রাজিলে পাঠাতে অনুমতি দেয়নি ভারত সরকার। সরকার পক্ষ থেকে দেশের মানুষকে বলা হয়েছিল ফিফা খালি পায়ে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা লাগিয়েছে। আর ফিফাকে বলা হয়েছিল ভারত বর্ষ গরিব দেশ তাই ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাদের কাছে নেই। কিন্তু ফিফা জানিয়েছিল যে তারা ভারতের মতো প্রতিভাবান টিম এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুক। তাই তারা ভারতীয় টিমের আসা যাওয়া থাকা খাওয়া সব খরচ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। তবুও ভারত সরকার ভারতীয় ফুটবল দলকে খেলতে পাঠায়নি। তখন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সরকারের অধীনে ছিল। বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেও অংশগ্রহণ করতে না পেরে টিমের মনোবল একেবারে ভেঙে যায় এবং এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আর ভারতবর্ষের বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। আগামী ভবিষ্যতের সেই সুযোগ পাবে কিনা তাও কারো জানা নেই। তবে এ প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভালো যে সরকা রের কাছে ভারতীয় ফুটবল দলের জন্য জুতো কেনার পাশে ছিল না সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী দৈনিক পোশাক প্যারিস থেকে ড্রাই ক্লিন হয়ে আসতো। নেহেরুজী'র প্রেমিকা এড বিনাকে লেখা চিঠি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে করে যেত। বুঝতে পারছেন,যিনি ভারতবর্ষের ফুটবলের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন তার নামে শিশু দিবস পালন করা হয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় আজ ভারতের সাতটা ফুটবল স্টেডিয়াম এর মধ্যে তিনটি নাম জহরলাল নেহেরু নামে। আর একটি  নেহেরু কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর নামে।সেই সময়ে ভারতীয় টিমের ক্যাপ্টেন শৈলেন্দ্রনাথ মান্না বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ক্যাপ্টেন এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কিছু বছর পর তিনি ভারতীয় ফুটবলের সাথে হওয়া এই প্রতারণার কথা জানিয়েছিলেন।এই হলো ভারত বর্ষের ফুটবলের ইতিহাস।এসব নিয়ে আজ আমরা কেউ মাতামাতি করি না,বা ভাবার সময় কারো নেই।


                                                                     ( লেখাটি লেখকের সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত মতামত)