অলক্ষ্যে                                                                            অণুগল্প        

অরিন্দম গোস্বামী



   রেফারির হুইসেল বেজে উঠতেই ছুটে গিয়ে বলটার দখল নিলো বুবান। তারপরেই ছুট লাগালো কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে।

   এক্সট্রা-টাইমের শেষদিকে - সুপার কাপের ফাইনাল। মাঠ উপছে পড়েছে ভীড়ে। কলকাতা থেকে আসা বড়োদলের স্পটার - সে তো আছেই। 

   পিংকিও নির্ঘাত আছে। রোজ আসে। তবে, সেটা বুবানের জন্যে না বিল্টুর জন্যে - জানে না বুবান। এই টুর্নামেন্টে দুজনেরই তিনটে করে গোল আছে। 

   বলটা বসাতে বসাতেই আড়চোখে পেনাল্টি বক্সের মাথায় একবার চোখ বোলালো বুবান। বক্সের থেকে হাত দশেক বাইরে আনমনে বিল্টু চুলে হাত দিলো। ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। বুবান কিক নিতে দৌড়াতে শুরু করলে, দৌড় শুরু করবে বিল্টুও। লম্বা বিল্টুর হেডের জোর সাংঘাতিক। 

   এপাশে সাইড লাইন ধরে হাততালি দিয়েই দৌড়াতে শুরু করেছে সন্টা - গায়ে গায়ে ওদের নাছোড়বান্দা রাইট ব্যাক। রিজার্ভ বেঞ্চের থেকে কোচ কমলদার চিৎকার - লাস্ট চান্স। 

   আবার রেফারির হুইসেল। আর সময় নেই। গোল পেলে বিল্টুই হবে হিরো। তখন ওর ল্যাজে-ল্যাজে প্রাইজ, স্পটার, পিংকি…

   ছয়-পা দৌড়ে এসে ডানপায়ের ইনস্টেপ দিয়ে বক্সের মাথায় বল তুললো বুবান। বলটা ইনসুইং করে ঘুরতে ঘুরতে পড়তে লাগলো বক্সের মাথায়। ছুটে আসছে আনমার্কড বিল্টু। দর্শকরাও উঠে দাঁড়িয়েছে।

    এখুনি হয়তো চিৎকার করে উঠবে সবাই। জাল কেঁপে উঠবে বলের ধাক্কায়। দর্শকরা তীব্র বেগে ছুটতে শুরু করবে গোল এরিয়া লক্ষ্য করে। বুবান আকাশের দিকে তাকালো। কপাল বেয়ে গড়িয়ে আসা ঘামের রেখা তখন ওকে জানাচ্ছিলো - মাথাটা খুব ঠাণ্ডা রাখতে হবে এবার!